Sunday, May 8, 2022

যে পথে হাঁটছি...

চৈতালি ধরিত্রীকন্যা 'যে পথে হাঁটছি'র পাঠ-প্রতিক্রিয়া 

আলোচক: অমিত দাস 

 


১.

'কেমন করে ঠোঁট কাঁপে গরম চা দেখে? দুটি পাতা একটি কুঁড়ির ডুয়ার্স-সুন্দরী। তোমার পার ভাঙা কুলে জলপাই ছায়া নেমে আসে। তোমার ভাঙা কুলোর শরীরে পোড়া উত্তাপের ছাই ছড়ায়। তোমার মসৃণতায় ছন্দ-পতন হয়। তুমি নিয়মিত স্নান সেরে নিতে পারো না। তুমি ধর্ষিত হও। তোমার মনের হাড় মাংসে প্রাচীন ছায়া পড়ে। চা কন্যা তোমার অববাহিকায় বার বার ঝুম চাষ হয় অথচ তুমি শুকনো স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে । তোমার যৌবন শুকিয়ে যায়। বুকের কালো কালো রিডে তালা ঝোলে । তুমি স্তব্ধ হও ।'(৩২)

'মানসাই-এর চর । কাশফুলের সাদা চুষে চুষে খাক্ । অথবা তরমুজ কামড়ে খাক্ বালিতে শুয়ে। এভাবেই উদ্দেশ্যের মধ্যে পেঁচিয়ে থাকে বিধেয়ের সবস্বতা । বালির চরে বালির ঘর। এক বাণেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় অভিধানের প্রতিটি পাতা। আকাশকে ক’জন চেনে। দূরদৃষ্টির নাবিকও কম্পাসের কম্পন কখনো-কখনো বোঝে না।'(৫)

/'সুটুঙ্গার জল প্রতিবছরই বিজয়ার পান্তাভাত খান । ডিঙিগুলো সবুজ জলে দশমীর আবির মাখে। আর নৌকোর ভীড়ে বিসর্জনী গান তাকিয়ে থাকে কোজাগরি চাঁদের দিকে। জল থই থই। ভেলার ভাসান। আলোর রোশনাই। আমি দশমীর ঘটে তোর্ষার জল ভরে রাখি।'(৬)

'এই পথ দিয়ে দৌড়ে শিশুরা নরনারায়ণ পার্কের দেবদারু শরীরে বিকেল ভেজায় আপন খেয়ালে। আজকের মতো কোনো টিকিটঘর, লোহার গেট পথ আগলে রাখত না ‘সেলফিস্ জায়েন্ট’-এর মতো। শিশুমন আজ শৃঙ্খলের বিশৃঙ্খলায় শেকলবাঁধা। কৈশোর আজ আলুথালু ঘুরে বেড়ায় পথে ঘাটে ।'(৮)

***********

২.

'চুরি হয়ে যাচ্ছে মস্তিষ্ক শারীরিক শ্রমে। চুরি হয়ে যাচ্ছে স্বদেশ মৃত্তিকার প্রেমানুভূতি। চুরি হয়ে যাচ্ছে রক্তের সম্পর্কের, আত্মার সম্পর্কের, চাক্ষুষ সম্পর্কের প্রাণবায়ু। ‘দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে’ সেও কত বুকে জড়িয়ে প্রিয়জনের মতো হু হু কেঁদে ওঠে বিদেশ বিভোরে হঠাৎ দেখা কোনো স্বদেশি অপরিচিত জন ।

চকচকে তলোয়ারের অগ্রভাগে কোন্ ষড়যন্ত্র মহামূল্যবান রক্তের স্বাদ নেয়।'(২৩)

***********

৩.

'সমুদ্র পাড়ের মানুষ একবার দেখেছিল পদ্মের পাপড়ি থেকে উঠে আসা ত্রিশূলের লকলকে জিভ। কখনও থমথমে আঁতকে ওঠা আচমকা ভয়ের শরীর থেকে পিচঢালা রাস্তার গায়ে কাঁচা গলির মুখে রক্ত ফোঁটা ফেলেছিল কে বা কারা। বিবশ পথ দিয়ে জাহানারা হেঁটে যায় মৃত্যু শিবিরের দিকে। উলঙ্গ নারী আর শিল্প ভাস্কর্যের অবাক করে দেয়া শরীর মোহময় থাকে না যখন তার দেহে নখের আঁচড় লাগে । গীতা বেন কোথায় তোমার বাসা কোথায় তোমার ঘর। বোন তোর হৃদয়তীরে মুক্ত পাখি ত্রিশূলের ডগায় ডানা ঝাপটায় । ত্রিশূলের ডগায় কোরাণ পত্র, ত্রিশূলের ডগায় তার অণ্ডকোষের অগ্রভাগ ।'(২৭)

************

৪.

এপথেই মানুষজন থুথু ফেলিয়া সেই থুথুই নিজে চাটিয়া লন। আমি দেখি বিদ্যুৎচুল্লির খোলা দরজা ।

রাজপাট! তুমি ‘নিরুত্তর'।(৩৩)

কলঙ্কের আর এক নাম যদি পরিহাস হয় তবে তার আর এক নাম রাখি লবণহ্রদ ।

মনের খোরাক পেতে দেহের নুন চোষে যারা তাদের কাছে জানতে ইচ্ছে করে কতটা পালক খসে পড়লে পায়বার রং আর সাদা থাকে না ।(৭০)

************

৫.

মাতৃদুগ্ধেই তোর প্রথম গলা ভেজানো। মায়ের হৃদয়, মাতৃমনের মুগ্ধতা আনতে তোমাকে সেই গলা জলে নেমেই আরাধনা করতে হয়। এখনও পৃথিবী কাঁপে তারই মহিমায় ।

মাতৃত্বের আর এক নাম গঙ্গাজল ।(৪৬)

********

৬.

ভালোবাসার পাশে একটি জীবন্ত প্রেম নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে। সকালের কচি রোদের শরীরে উত্তাপ নামে। আর সিল্ক স্ক্রিনে প্রেমের আলিঙ্গনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রাণোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। প্রেমার্ঘ কার? প্রেমই প্রেমকে রচনা করে। ফুল বাগিচার পোশাকে নানান রং লাগে। মন পড়শি। চারদিকে সোনালি রোদ ওঠে। এ পথের আকাশ পৃথিবীর দিগন্ত ছুঁতে চায়। চারপাশে হাঁটতে হাঁটতে এক পশলা আত্মকাহন গেয়ে ওঠে কেউ । চুর্ণিতে ফোঁটা ফোঁটা হলুদ লাগে । আর চড়ুই পাখির বাসার মতো অধিকার নিয়ে প্রেম। শাওয়ারের নীচে নিজস্ব তানবাহার।(৫৩)

সে কি দেখে ধানের হলদে নাভি? কোনোদিন?

অবচেতনেই বয়ে যায় ভালোবাসা। বৃষ্টি আসে। গৌরচন্দ্রিকায় লজ্জা নামে। নিজেকে বন্দি রাখা যায় না কোনোভাবেই। সকাল-দুপুর সন্ধ্যার নোনা রোদে তবু ঢুকে পড়ে সংযত আধার ।

৫১.

ট্রামবাসগুলির আর বিরাম নেই। যৌবন মানে না দুর্যোগ। প্রেম হয়ে যায় সিনেমা হলে, মেলার মাঠে, বিবাহ বাসরে, টিভির পর্দায়, খেলার মাঠে। চুপি চুপি প্রেম হয়ে যায় দুর্গোৎসবের নতুন পোশাকে । হোলির রামধনুর ধাঁধা ধরা মুখমণ্ডলে। ঈদের অবুঝ চোখে অথবা বড়োদিনের উদারকোণে। প্রেম হেঁটে যায় পার্কের সবুজ গালিচায় । আধপোড়ো দালানবাড়ির সিঁড়ি চত্বরে প্রেম বসে থাকে । প্রেম অপেক্ষা করে পাশের সিটে অথবা বাস স্টপে। প্রেম ধীরে ধীরে হাঁটে লালমাটির ধুলো উড়িয়ে । প্রেম ছুটে যায় হলুদ মখমলি শস্যক্ষেতের আল বেয়ে গ্রাম্য জলসায় ।

৫৫.

অবলম্বনের মধ্যস্থতায় উদারমানব সুদীর্ঘ পথ হেঁটে চলে। আর ভাস্কর্যের মায়াজালে নিহত হয় প্রতিবার। বিদীর্ণ হয়। তবু উষ্ণ প্রস্রবণ। উদ্যম জাগরণ। তবু প্রশ্রয়। নোনাজল। এই হাসনুহানার বেদিভূমি । টগবগ করে বড়িশ্যাম্পু । সর্বসঙ্গম প্রাচীনতা মাড়িয়ে যায় । সৌরালয়ের পেলবদেশ থেকে রাগচূর্ণ ঊর্মি। উন্মাদনায় বাষ্পকুচি ৷ প্রবল শ্বাসে স্নায়ু দুলে ওঠে। ঘর্ষণের শব্দ। পোশাকের অন্ধকারে তিরতির বয়ে যাওয়া। গোলাপি সিঁড়ি থেকে গাঢ় নীল মঞ্চ। এঁকেবেঁকে জলজ আবেশ। রক্তাভ অভিসার থেকে মখমলি ভাষা। দীর্ঘস্নান । পরাগমিলন ঘটায় মৌতাত।

নরম বালিশ তোমার আদর তোমারই মতো।

******

৭.

সারারাত নক্ষত্রের দিকে মিছেই হিসেব কষা। ঘুম ভাঙে । অথচ আমাদের পাগল মন আবার একটু গুছিয়ে নিতে চায়। নিজের পোশাকের ওপর বর্ম পড়ে নেয়। তাই যতগুলি কথা দিয়ে গড়া যায় মুহূর্তের পর অতি মুহূর্ত ততটুকুই চাইতে হয়। ছুঁয়ে থাকে এক আন্দোলিত পথ । মানসপ্রতিমার নকশাছবি কে আঁকতে পারে?(৫৯)

অক্ষরেখায় সময় গড়ায়। পানের ডাবর লাল হলে বার বার প্রেম আসে। বৈষয়িকতার চোরাবালিতে একসময় পা ডুবে যায় আর বেনারসীর ভাঁজে লুকিয়ে পড়ে ঘুণপোকা ।

বেতবনে কালির আঁচড় লাগে । বিন্দু বিন্দু অস্থিরতায় ঝাঁঝরা হয় বুক। পিছল পথের পিচ্ছিলতা। পায়ের নীচে টুকরো কাচের বালি বিছানা । তৃষ্ণা কতটা আগুন খেলে সেতু দুর্বল হয় ।

একান্ত আত্মজন তোমরা কি কোনোদিন ক্লান্ত হও না !(৭৩)

এপথেই দম খাটো হয়ে আসে বলেই প্রিয়জনেরা চলে যায়। বিদেহী আত্মারা ঘর বাঁধে। আর নির্জনসূচে অন্ধকারগুলো এক এক করে নিজেদের জড়িয়ে রাখে। গলতে গলতে বেদনা মাটিতে মেশে। পুরোনো রক্তগুলোকে পরিষ্কার করতে পারা যায় না কোনোভাবেই। কান্না কাঁদে । জলসিঞ্চন। সীমাহীন শূন্যতা। বেড়ালকাহিনী একসময় চাপা পড়ে যায় ।

সাদারঙে মুছে দিলেই কি দাগ মোছা যায়?

আমি ঝিনুকের গায়ে আঁকাবাঁকা ত্যাগচিহ্ন দেখি ।(৭৬)

*********************************

৮.

গ্রন্থটির পরিচয় হিসেবে লেখা আছে কাব্যিক গদ্য । কাব্যিক গদ্য আসলে কবিতা নাকি গদ্য নাকি সাহিত্যের অন্য কোনো সংরূপ তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই— এই দূষিত বিতর্ক ভেঙেচুরে তা থেকে রস-নিষ্কাশনেরও আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই । লেখা তো লেখা.. আকাশ-পাতাল-বায়ু-নক্ষত্র-মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত-গাছ-যন্ত্র যাই থাকুক না কেন , সেই উদ্দেশ্যহীন ঐচ্ছিক রূপকথার জগতে কিছুক্ষণ থ হয়ে থেকে যাওয়াই পাঠকের প্রকৃত প্রাপ্তি। এই গ্রন্থটি ৭৬টি এমন জলবিন্দুর হার , এর ভাষা দুপুর রোদে তৃষ্ণার্ত পথিকের কলিজা ভেজায়। কোনোটা প্রকৃতি , আধুনিক প্রেম, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে বা রাজনীতি নিয়ে তো কোনোটা সময় নিয়ে লেখা। আলোচনায় স্বল্প পরিসর ও আমার সাবালক অক্ষমতা আমাকে চালিত করছে। শুধু এটুকু বলে শেষ করব— চিন্ময় গুহ''ঘুমের দরজা ঠেলে' পড়েছিলাম , নিঃসন্দেহে ভাষা ও পড়ার শৈলীকে ভেঙেচুরে পাঠককে নতুন জামা পরিয়ে দেয়; কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই গদ্য পাঠ করতে গিয়ে মনে হয়েছিল, সেখানে জীবনানন্দীয় বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব আছে। এখানে সেই প্রভাব নেই— লেখকের নিজস্ব স্বাদরংধনু প্রকাশিত। এই লেখাগুলি যেন যত্ন করে রাখা মায়ের পুরনো শাড়ি — প্রতিদিনের ব্যবহার্য ,কিন্তু তাতে যে আদর মাখা হাতের ছোঁয়া আছে তার মূল্য কসমিক।

________________________________

'যে পথে হাঁটছি'

চৈতালি ধরিত্রীকন্যা

প্রথম প্রকাশ : ২০০৯

প্রচ্ছদ :পল্লব সরকার

আবৃত প্রকাশন (৯৪৭৫২৪৫৮৫২)

(এখানে ব্যবহৃত ছবিটি লেখকের ফেসবুক দেওয়াল থেকে নিয়েছি)

 

পাঠ-প্রতিক্রিয়া/আলোচক: অমিত দাস  

প্রকল্পনায়: 'উত্তরবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতি' আর্কাইভ 

Saturday, May 7, 2022

নুন সাবানের গল্প

শুভ মৈত্রের ‘নুন সাবানের গল্প’



শুভ্রর শব্দেরা মধ্যরাতে ঘুম থেকে আমাদের ঝাঁকিয়ে তোলে, আমাদের ঘুমোতে দেয় না, ক্রমাগতঃ কানের কাছে চিৎকার করে বলে “আমাদের তোমরা ভুলতে পারো না। আমাদের মনে রাখতে তোমরা বাধ্য। “শুভ্রর পাঠকেরা বাধ্য তার এই বইটি হাতে নিয়ে শেষ করার পরও চুপ করে বসে ভাবতে।

অনন্য শব্দ চয়ন, ঝকঝকে গদ্যর পাশাপাশি তাঁর আধুনিক এবং চারপাশের ঘটনা কেন্দ্রিক বিষয় নির্বাচন আমদের অভিভূত করে। শিক্ষার সঙ্গে বেমানান চাকরির প্রস্তাবে নিজেকে ফুরিয়ে ফেলা যুবকের উঠোন থেকে ভিড় সরে গেলে বিছানার চাদর পাল্টে দেন মা, আর হাউসকিপিং শব্দ টা আমাদের চারপাশে নৈঃশব্দ নিয়ে আসে। শুভ্রর কলমে উঠে আসে যৌনলাঞ্ছনা লুকোতে শেখা কিশোরীর মুখ, পরিযায়ী শ্রমিকের দুর্ভোগ, হাঁটতে হাঁটতে লুটিয়ে পড়া ছত্রিশগড়ের জামালা মকদমের যন্ত্রনা, রেল লাইনে পড়ে থাকা নিহত পরিযায়ী মানুষের রুটির তুকরো, আশ্রয় খোঁজা বন্যার্ত মানুষেকে সাহায্যের অসহ্য ভান।

অনায়াস দক্ষতায় শুভ্র এঁকে যান ঘটনার ছবি। বাস দূর্ঘটনা, নিয়ত অপমানিত শিক্ষক, ভোটের আগে নিজের রেট জেনে যাওয়া মানুষ, ফুটবলার হতে চেয়ে এগরোলের দোকানদার হয়ে যাওয়া হেরো মানুষ, করোনা কালে স্কুল বন্ধের কথা শুনে খিচুড়ি না পাওয়ার বেদনা বিদ্ধ ক্ষুধার্ত মুখ, সবার সহমর্মী শুভ্র। সুবিধাবাদী রাজনীতির, রাজনীতির কারবারির মুখোশ খুলে দেয় শুভ্রর শানিত তরবারি। এক একটি বাক্য তীরের মতো নিঁখুত নিশানায় ছুটে যায়। কালো মেয়েকে রাস্তায় ব্যঙ্গবিদ্ধ করে আমেরিকার কালো মানুষের অধিকার নিয়ে সরব মধ্যবিত্ত ভন্ডামিকে টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গে ফেলেন শুভ্র। এই বইয়ের প্রতিটি শব্দ আমাদের চেতনাকে শানিত করে, প্রতিটি লাইন বুকের মধ্যে আলোড়ন তোলে। আমার মতে অবশ্যপাঠ্য এই বইটির শ্রেষ্ঠতম শব্দগুচ্ছ

স্বাধীনতা আসলে না বলতে পারার সামর্থ্য। ক্ষমতা ভুলে গেছিল তা’’।

চমৎকার প্রচ্ছদ, ছাপার ভুলবিহীন, সুন্দর অক্ষর বিন্যাসের এই বই পাঠকের সংগ্রহের একটি সম্পদ।

 

পাঠ-প্রতিক্রিয়া: মৃগেন সরকার।

 

নুন সাবানের গল্প

শুভ মৈত্র।

উড়ান, মালদহ (9474476506)

মূল্য ২০০ টাকা।

 

Friday, May 6, 2022

‘দৃশ্যমুখ’ পত্রিকার পিডিএফ

আলিপুরদুয়ারের ‘দৃশ্যমুখ’ পত্রিকা 

 


বর্তমান আলিপুরদুয়ার জেলার আলিপুরদুয়ার শহর থেকে প্রকাশিত হয় কবি উত্তম চৌধুরী সম্পাদিত ‘দৃশ্যমুখ’ পত্রিকা। এখানে আমরা ১৪- প্রকাশিত ‘দৃশ্যমুখ-এতম বর্ষ সংখ্যার পিডিএফ উন্মুক্ত করছি, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এই সংখ্যার সূচিপত্র ও পিডিএফ তৈরি করেছেন ‘উত্তরবঙ্গ সাহিত্য-সংস্কৃতি’ আর্কাইভের তরফে অমিত দাস।

 

দৃশ্যমুখ’,

উত্তম চৌধুরী সম্পাদিত,

১৪২১, শারদ সংখ্যা, ২৩তম বর্ষ

 

সূচিপত্র

গল্প:

অর্ণব সেন তুষার চট্টোপাধ্যায় দেবাশিস চক্রবর্তী রমা কর্মকার

 

কবিতা প্রথম পর্যায়ঃ

বেণু দত্তরায় অজিত বাইরী অরুণ চক্রবর্তী নীরদ রায় পরেশ কর্মকার কঙ্কণ নন্দীপাঞ্চালী সিন্হা কমলেশ রাহায়ায় সুদীপ্ত মাজি সুনন্দা গোস্বামী নিলয় মিত্র বেণু সরকার রাণা চট্টোপাধ্যায় শ্যামলী সেনগুপ্ত মধুমিতা চক্রবর্তী দিলীপ তলয়ার শিপ্রা বসু তালুকদার উত্তমকুমার মোদক পল্লবকান্তি রাজগুরু তনুশ্রী পাল পবিত্রভূষণ সরকার আশিস চক্রবর্তী প্রশান্ত দেবনাথ উজ্জ্বলা ঘোষ মণিশংকর রায় সুভাষচন্দ্র ভট্টাচার্য প্রতীক বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষ্ণপদ কুণ্ডু

 

কাব্যগ্রন্থ আলোচনাঃ অজিত বাইরী

 

কবিতা দ্বিতীয় পর্যায়ঃ রিমি দে সুবীর সরকার সঙ্গীতা পাল অরুণাভ রাহারায় অয়ন চৌধুরী বাবলি সূত্রধর সাহা কুম্ভল মন্ডল শুভেন্দু লাহিড়ী মিহির দে সুজাতা পাল অম্বরীশ ঘোষ সুবীর কয়াল মহুয়া শৌভিক বণিক স্বাগতম মুখোপাধ্যায় অপর্ণা ভট্টাচার্য (রায়) উত্তম চৌধুরী


||ডাউনলোড পিডিএফ|| 

লিংক: ডাউনলোড 'দৃশ্যমুখ'

 

পিডিএফ নির্মাণ: অমিত দাস

প্রকল্পনায়: ‘উত্তরবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতি’ আর্কাইভ

‘বিনিদ্র’ পত্রিকার পিডিএফ

আলিপুরদুয়ারের ‘বিনিদ্র’ পত্রিকা


বর্তমান আলিপুরদুয়ার জেলার আলিপুরদুয়ার শহর থেকে প্রকাশিত হয় কবি বেণু সরকার সম্পাদিত ‘বিনিদ্র’ পত্রিকা। এখানে আমরা ২০১২-তে প্রকাশিত ‘বিনিদ্র’র ৪৩ বর্ষ ২য়-৪র্থ সংখ্যার পিডিএফ উন্মুক্ত করছি, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এই সংখ্যার সূচিপত্র ও পিডিএফ তৈরি করেছেন ‘উত্তরবঙ্গ সাহিত্য-সংস্কৃতি’ আর্কাইভের তরফে অমিত দাস।

 

'বিনিদ্র'

সমাজমনস্ক দ্বিমাসিক সাহিত্য পত্রিকা

৪৩ বর্ষ, ২য়—৪র্থ সংখ্যা ৩১/১০/২০১২

লেবুবাগান, আলিপুরদুয়ার

সম্পাদক বেণু সরকার

সংযুক্ত সম্পাদক তপনকুমার ঘোষ এবং ছানু সাহা

সহ-সম্পাদক

বন্দিতা সরকার

সম্পাদকীয়

 

এই সংখ্যায় যাঁরা লিখেছেন—

জগদীশ আসোয়ার

রাণা চট্টোপাধ্যায় উৎপল ঝা

নিলয় মিত্র

মানবেন্দ্র দাস

অর্ণব সেন

অরূপ চন্দ

সুদীপ্ত মাজি

শিপ্রা সেনধর

কমলেশ রাহারায়

সনৎ চট্টোপাধ্যায

কৌশিক বিশ্বাস

ইউসুফ আমিন শম্ভুনাথ কর্মকার

সমীর চট্টোপাধ্যায় শৌভিক দে সরকার

দেবাশিস চাকী

আশিস ঘোষ প্রদীপ দে

বিকাশকুমার রায়

রাহুল হক

উত্তমকুমার মোদক নরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত

সুদীপ্ত বিশ্বাস

স্বর্ণাভ বালা

শৌভিক বণিক

হারাধন পাল

উত্তম চৌধুরী অরুণ চক্রবর্তী

অমর চক্রবর্তী

উত্তম দাশ

অমলকান্তি রায়

অজিত বাইরী

পাঞ্চালী সিন্‌হা

তানিয়া চক্রবর্তী ব্যাসদেব গায়েন

তনুশ্রী পাল

দীপঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত

দিলীপ দাশ অরুণা রায়

ইন্দ্ৰনীল মুখোপাধ্যায়

মীনাক্ষী মজুমদার

শুভেন্দু লাহিড়ী উৎপল অধিকারী

মনোজকুমার সিংহ মধুমিতা চক্রবর্তী

গৌরব চক্রবর্তী

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ভাদুড়ী

প্রবীর দাস

মৃদুল শ্রীমানী

প্রশান্ত বাগচী

মৃণাল চক্রবর্তী

অম্বরীশ ঘোষ

বিপ্লব পাল

তুষার বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিজিৎ দাস

তনুময় সরকার

বেণু সরকার

দিলীপ বিশ্বাস

কমলকৃষ্ণ রায়

বুলা সরকার

সুজিত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশান্ত দেবনাথ অর্ণব সেন তুষার চট্টোপাধ্যায় কবি চক্রবর্তী অঞ্জনা গুহ ঠাকুরতা সুমন গোস্বামী


||ডাউনলোড পিডিএফ|| 

লিংক: ডাউনলোড বিনিদ্র


পিডিএফ নির্মাণ: অমিত দাস

প্রকল্পনায়: ‘উত্তরবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতি’ আর্কাইভ

 

Friday, January 21, 2022

কবি অরুণেশ ঘোষ তথ্যপঞ্জি

 কবি অরুণেশ ঘোষ




জন্ম: ২৯শে ডিসেম্বর ১৯৪১
মৃত্যু: ২৪শে আগস্ট ২০১১
জন্মস্থান: হাওয়ার গাড়ি গ্রাম, কোচবিহার 

লেখাজোখা—


কাব্যগ্রন্থ:
শব ও সন্ন্যাসী (১৯৮১) – ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রকাশিত 
গুহা মানুষের গান (১৯৮৫) – জিরাফ (২০২২-এ শাঙ্খিক) 
সহজ সন্তান যাঁরা (১৯৮৯) – পুনরুত্থান
দীর্ঘ নীরবতা (১৯৯৪) – সাহিত্য প্রকাশনী 
বিপথিক (১৯৯৫) – কৌরব
কাল কবীরের দোঁহা (২০০০) – তমসুক 
পশুরাও অন্তর্লীন হাসে (২০০৮) – কবিতীর্থ

কবিতা সংকলন: 
কবিতা সংগ্রহ ১ (২০০৬) – কবিতীর্থ 
শ্রেষ্ঠ কবিতা – প্রতিভাস 
দোঁহাসমগ্র (২০১৩) – কবিতীর্থ 

গদ্য+প্রবন্ধ:
অপরাধ আত্মার নিষিদ্ধ যাত্রা (১৯৮৩) – ধৃতরাষ্ট্র 
জীবনানন্দ (১৯৯৮) – কবিতীর্থ 
জীবনের জার্নাল (২০০২) – কবিতীর্থ 
কবিতার অন্ধকার যাত্রা (২০০৪) – কবিতীর্থ (২০২১-এ তবুও প্রয়াস) 
আমার কবিতাযাত্রা (২০১৩) – নাটমন্দির 
কবি শৈলেশ্বর ঘোষ (২০১৮) – কৌঞ্চদ্বীপ 
আত্মকথা – গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত

নাটক: 
বর্বরের তীর্থযাত্রা (১৯৯৮) – কবিতীর্থ
পেছনের দরজা 
কুকুর পরিবার

গল্প:
গল্প সংকলন (২০১১)- নাটমন্দির 

উপন্যাস: 
সন্তদের রাত (২০০২) – প্রতিভাস 
নগ্ন পরিবার (২০১৯)

চিত্রনাট্য:
আট বছর পরের একদিন

অনুবাদ:
মাতাল তরণী (১৯৯৫) – কবিতীর্থ 

সম্পাদনা: 
জিরাফ পত্রিকা (১৯৭০)

[বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন ও ইন্টারনেটের তথ্যভান্ডার ঘেঁটে এ অসম্পূর্ণ তালিকাটি বানিয়েছেন রাহেবুল। আয়োজনে ‘উত্তরবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতি’ আর্কাইভ]


Sunday, June 13, 2021

ইবলিশ পত্রিকা

 

ইবলিশ পত্রিকার তথ্যপঞ্জি 

ইবলিশের দু'একটি সংখ্যার প্রচ্ছদ


সম্পাদক - রাহেবুল

প্রকাশস্থান - দক্ষিণ দেওগাঁও, ফালাকাটা, আলিপুরদুয়ার-৭৩৫২১৩ 

প্রথম প্রকাশ - ২০১১ খ্রিস্ট অব্দ 

ধরন - কবিতাকেন্দ্রিক নিরীক্ষামূলক পত্রিকা যা কাঠ বাস্তবকেও উপেক্ষা করে না।

মটো - Break The Protocol 

মাধ্যম - ছাপা/পিডিএফ/ব্লগজিন 


ইবলিশের প্রকাশিত কিছু সংখ্যার সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত রইলো নীচে।  


প্রথম সংখ্যা (২০১১):

প্রথম সংখ্যা উৎসর্গিত ছিল ‘বিদ্রোহীকে’। উত্তরবঙ্গের লিটিল ম্যাগাজিনগুলির একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া ভালো একটি প্রবন্ধ ও কিছু কবিতার পাশাপাশি এরসাদ হোসেনের একটি দুরন্ত রম্যগদ্য ছিল ‘অন্য লেখা অন্য কথা’ বিভাগে। লেখাটির নাম ‘ফাটা T.V-র ভূ-পরিক্রমা’। সংখ্যাটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ২৪, সাইজ ১/৮ ডিমাই। প্রচ্ছদ সম্পাদক স্বয়ং। মূল্য অনুল্লেখিত।


দ্বিতীয় সংখ্যা (২০১২): 

উৎসর্গিত ছিল ‘every broken-hearted people in the world’। এ সংখ্যায় লোকচর্চার আড়ালে থাকা নস্যশেখ মুসলিম সমাজ তথা উত্তরবঙ্গের রাজবংশী মুসলমানদের নিয়ে একটি প্রবন্ধ ছিল গবেষক জ্যোতির্ময় রায়ের। একটি গদ্য ছিল সম্পাদকের লেখা ‘বি-স্বাদ (বিষাদ) উপসংহার’। আর কিছু তরুণ অচেনা মুখের দুর্দান্ত কবিতা। এ সংখ্যার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল লেখার মাঝে মাঝে সম্পাদকের সরাসরি কথা বলা/সংযোগ করা এবং পুরো পত্রিকাটিতে একটি নাটকীয় প্রসেস ছিল যেমন পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ওপরে বাঁদিকে ছোট্ট করে লেখা ছিল ‘please wait..’ তারপর সূচিপত্র এলে তার ওপরে ছোট্ট করে ‘welcome’, তারপর সম্পাদকীয় শুরু হলে তার মাথার ওপরে ‘now it’s waiting for you..’ এরপর কবিতা শুরুর পৃষ্ঠায় সবার ওপরে লেখা ‘এবার.. আকাশে উড়ান..’। এইভাবে পুরো পত্রিকাটি সাজানো। এমনকি সবশেষে যে বিজ্ঞাপন তার ওপরে মজা করে লেখা ‘তাহলে এবার.. মুখ ঢেকে যাক বিজ্ঞাপনে’! 

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ১৬, সাইজ ১/৮ ডিমাই। প্রচ্ছদ সম্পাদক স্বয়ং। ‘দরদাম- ১৫ ট্যাঁ’।


তৃতীয় সংখ্যা (২০১৪): 

উৎসর্গিত ছিল নবারুণ ভট্টাচার্যকে। এ সংখ্যায় শূন্য দশকের তরুণ কবিদের কবিতাই ছিল সবচেয়ে বেশি। প্রচুর ভালো কবিতা এতে প্রকাশিত হয়। ছিল বিকল্প ধারা/অপর কবিতা/নতুন কবিতার কয়েকজন কবির গুচ্ছ কবিতা। দু’টি দুর্দান্ত গদ্য ছিল একটি অমিতাভ প্রহরাজের, ‘অন্য ব্যাপার’। আরেকটি উদয়ার্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অপরাহ্নে মৈথুন কিংবা ব্যক্তিগত গদ্যে মধ্যরাত’। 

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ৪০, সাইজ ১/৮ ডিমাই। প্রচ্ছদ সম্পাদক স্বয়ং। মূল্য অনুল্লেখিত। 


চতুর্থ সংখ্যা (২০১৯): 

উৎসর্গ—আত্মঘাতী চাষা। এ সংখ্যায় পত্রিকার মূল ভাবনাচিন্তা অক্ষুণ্ণ রেখে কলেবর বেড়েছে, বেড়েছে বিবিধ বিভাগ। যদিও সব বিভাগ স্থায়ী নয় বরং উপস্থিত পরিকল্পনা থেকে জাত। যেমন প্রথম বিভাগ  ‘গদ্যগাথা-গল্পগাছা’, এতে মণিদীপা সেনের ‘অসমক্ষ’ প্রকাশিত হয় যা পাঠক মহলে বিশেষ প্রশংসা পায়। এই সংখ্যাতেই যোগ হয় বর্তমান সময়ে অপরিহার্য ফেসবুক, ব্লগ। ‘ফেসবুক সমাচার’ বিভাগে ফারহানার ‘ফেবুরঙ্গ’ও সুনাম কুড়ায়, এ বিভাগের লেখা সরাসরি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। এছাড়া তরুণ কবিদের প্রথম কাব্য নিয়ে আলোচনার জন্য একটি বিভাগ শুরু হয় ‘প্রথম কাব্যির পরশ’ যেখানে কবি উদয়ার্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যটি আলোচিত হয়। ‘গল্পাণু’ বিভাগে স্বাতন্ত্রে ভরা একটি ছোট্ট গল্প প্রকাশিত হয় ওয়াহিদার হোসেনের। ‘গল্পঘর’ বিভাগে জয়দীপ চট্টোপাধায়ের একটি অসাধারণ গল্প ‘দেওয়াল/ধূপ = আলো/ছাই’ প্রকাশিত হয়। ফেসবুকের মতন ব্লগও এবারে জোড়ে। ‘ব্লগবুক’ বিভাগে কাজল সেন সম্পাদিত ব্লগজিন ‘কালিমাটি অনলাইন’ ৬৯ সংখ্যার সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। ধর্ম কীভাবে মানবিকতার অন্তরায় তা নিয়ে একটি প্রবন্ধ লেখেন তৈমুর খান। এছাড়া ‘কবিতাগড় ১: নিজস্ব নিজস্বী’, ‘কবিতাগড় ২: গত্‌ডাঙা-গত্‌ভাঙা’ এবং ‘কবিতাগড় ৩: দ্য সহজ শয়তান’ এই তিন বিভাগে বহু বৈচিত্রের বিবিধ ধারার কবিতা প্রকাশিত হয় ২৮ জন কবির। ছিল দু’টি কবিতার বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া। ছিল ৮ টি লিটিল ম্যাগাজিনের গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা যেমন ‘তিতির’ পত্রিকার ‘মৃত্যু সংখ্যা’, ‘মল্লার’ এর ‘নারীবিশ্ব’, ‘বিনির্মাণ’ এর ‘আন্তর্জাল সংখ্যা’, ‘আঙ্গিক’ এর ‘নিষিদ্ধ সংখ্যা’ সহ ‘কৌঞ্চদ্বীপ’, ‘রক্তাক্ত মরুদ্যান’ এবং আরও অন্যান্য পত্রিকার বিশদ আলোচনা। 

স্বভাবতই বাজারচলতি বড়ো নাম এ সংখ্যার সূচিপত্রে নেই এবং তা বাদ দিয়েই যারা লিখেছেন দু’একজন ছাড়া কেউই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন না কিন্তু হ্যাঁ তারুণ্য, ত্যাড়াবাঁকা কাজ, বিকল্পপথে হাঁটবার ফূর্তি, কিছু নতুন ফ্লেভার এ সংখ্যায় পেলেও পাওয়া যেতে পারে।

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ৭৮, সাইজ ১/৮ ডিমাই। প্রচ্ছদ সম্পাদক স্বয়ং। তাছাড়া তরুণ শিল্পী বিনায়ক দত্তের আঁকায়-অলংকরণে পুরো পত্রিকা সমৃদ্ধ ছিল। ‘দরদাম কম-বেশি ১০০ টাকা মাত্তর’।


পঞ্চম সংখ্যা (জানুয়ারি ২০২০): 

উৎসর্গ ‘মানচিত্র নয় মানুষকে’। এ সংখ্যাটিতে চতুর্থ সংখ্যার নিয়মিত বিভাগগুলি বজায় থাকে। যেমন ‘ফেসবুক সমাচার’, ‘ব্লগবুক’, ‘প্রথম কাব্যির পরশ’, ‘ লিটিল ম্যাগাজিনের আলোচনা। কবিতার বিভাগ ‘কবিতাগড়: রং-বেরং’- এ যথারীতি নিরীক্ষামূলক ও চলতি লেখার সমাবেশ ঘটে। বাংলা ভাষা-সাহিত্যের বিভিন্ন সাহিত্য আন্দোলন/বিবিধ ধারা/বিকল্পধারা নিয়ে এক সবিস্তার পর্যালোচনা করেন কবি তুষ্টি ভট্টাচার্য তার ‘বিকল্প সাহিত্যের ধারা’ প্রবন্ধে। এছাড়া প্রবন্ধ বিভাগেই বারীন ঘোষালকে স্মরণ করে কবি উমাপদ কর প্রদত্ত প্রথম স্মারক বক্তৃতা ‘বারীনস্মরণি’ প্রকাশিত হয়। অনন্য আজাদ আলোচনা করেন কবি সোহেল ইসলামের প্রথম কাব্য ‘আব্বাচরিত’ এর। ‘ফেসবুক সমাচার’-এ সেখ সাহেবুল হক লেখেন ‘বাঙালি সমাজে লুঙ্গি’। আর ‘চা-এ পে চাচা’ লেখেন ফারহানা। দু’টোই মজাদার এবং সমসাময়িক আর্থসামাজিক পরিস্থিতির ওপর লেখা। ‘পুরাতনী/পুনর্মুদ্রণ’ হিসাবে বাংলার লোক-সঙ্গীত নিয়ে লেখা ভাওয়াইয়া শিল্পী আব্বাসউদ্দিন আহমদের একটি প্রবন্ধ পুনর্মুদ্রিত হয়। যার শিরোনাম ‘বাংলার লোক-সঙ্গীত’ হলেও এটি আসলে উত্তরবঙ্গের লোকসংগীতের ওপর ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ চমকপ্রদ আলোচনা। এছাড়া স্বতন্ত্র স্বাদের অণুগল্প, ঝুরোগল্পও মুদ্রিত হয় এ সংখ্যায়। ‘ব্লগবুক’ বিভাগে থাকে ‘বাক্‌ অনলাইন’ ১৩৮ থেকে অনুপম মুখোপাধ্যায়ের দুরন্ত, ভীষণ প্রাসঙ্গিক সম্পাদকীয়টি। যথারীতি থাকে লিটিল ম্যাগাজিনের আলোচনাও।  

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ৮৬, সাইজ ১/৮ ডিমাই। প্রচ্ছদ শান্তনু পাত্র। সারা পত্রিকা কবি-নাট্যকার বের্টোলট ব্রেখট এর উদ্ধৃতি/বাণীতে ছিল সজ্জিত । ‘দরদাম কম-বেশি ১০০ টাকা মাত্তর’


ষষ্ঠ সংখ্যা (সেপ্টেম্বর ২০২০): 

ইবলিশ কখনও বিশেষ সংখ্যার ধার না ধারলেও এবারেই প্রথম একটা ভাবনাসুতো/ভাবনাসূত্র ছিল, 'মরণের এপারে'। 

'মরণের এপারে' বসত করছি আমরা সকলে আদ্যি থেকে আজকের করোনা পর্যন্ত। খুব পরিচিত, তবু ভুলে বসি। যেখানে নেতা-নেত্রী-ভোট, উলুখাগড়ার মৃত্যু.. ঘুম.. নির্ঘুম.. দাঙ্গা.. ভিড়.. বেকারত্ব.. আর্তনাদ.. দলিত.. আদিবাসী.. আদিবাসিন্দা.. ধর্মের বিকার.. সাজানো বিচার.. ইসলামবিদ্বেষ.. জলজঙ্গল লুট.. সাসপেন্স.. সাসপেন্সন.. নকশাল.. সরকার.. বেসরকার.. রোগভোগ.. ভোগান্তি.. পুলিশ.. মব-লিঞ্চিং.. ডিনাগরিক.. ঠুঁটোজগন্নাথ.. লড়াই.. খালি পায় হাজার মাইল হেঁটে চলা.. সমাপ্তিহীন সব কান্না-ক্রাইসিস.. সকলই মিলে ছিল ইবলিশ ৬ - মরণের এপারে।

ইবলিশ ৪ এবং ইবলিশ ৫ এর মতন এতেও অনেক ক'টি নিয়মিত বিভাগ রক্ষিত হয়েছে যেমন ‘ফেসবুক সমাচার’, ‘ব্লগবুক’, ‘প্রথম কাব্যির পরশ’, 'লিটিল ম্যাগাজিন পরিক্রমা', সঙ্গে এবারে বাড়তি ব্লগজিন বা পিডিএফ সংখ্যাগুলিরও দু'একটির রিভিউ থেকেছে। যে বিভাগগুলি বইপত্র, লিটল ম্যাগাজিন এর সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবজগতকেও দিব্য জুড়ছে। পাঁচজন লেখক—মণিদীপা সেনের দু’টি গদ্য: লেখা ও এপারের ব্যক্তিগত ভাত,  শাস্তি ও মহাজীবন, সোমনাথ বেনিয়ার গদ্য: কে দাঁড়িয়ে, কেনই-বা, ঢি শুমের গদ্য: ওরা আসে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অবাক করে দ্যায় খুন আমার শিল্পের, পৌলমী গুহর গদ্য: পৃথিবী ও জ্ঞানদায়িনী হেতু, দেবজ্যোতি রায়ের গদ্য: দিগন্ত অবধি বিস্তৃত এই বধ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে— মোট এই ছ'টি গদ্য এ সংখ্যায় প্রকাশিত, ছিল কিছু দুরন্ত কবিতা, লাজবাব দু’টি গল্প। কবি-লেখকদের সবাই অনামা।

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭০, সাইজ ১/৮ ডিমাই। প্রচ্ছদ সম্পাদক স্বয়ং। সারা পত্রিকা জুড়ে ব্যবহৃত হয়েছে শতবর্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসাবে কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা-কাজ, যা এ সময়টাতেও ভীষণ প্রাসঙ্গিকও। ‘দরদাম কম-বেশি ৫০ টাকা মাত্তর’ (পিডিএফ ফর্ম্যাটের ক্ষেত্রে এই দাম, ব্লগের কোনো সাবস্ক্রিপশন ফি নেই সেটা সবারই জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত। ব্লগ: https://iblish6.blogspot.com/, এছাড়া মূল ব্লগ https://www.iblish.in/-তেও সংখ্যাটি পাওয়া যায়, যেখানে লেখক ধরে ধরে লেখার লিংক আছে)।


সপ্তম সংখ্যা (মে, ২০২১):

ষষ্ঠ সংখ্যার মতনই একটা ভাবসূত্র ইবলিশের সপ্তম সংখ্যাতেও ছিল সেটি হলো ‘নিরোর নগরকীর্তন ও তাহার নাগরবৃন্দ’।  সম্পাদক লেখেন “বাঁশি না বীণা না বেহালা কী বাজাতেন নিরো?—কেউ হয়তো জানে ঠিকটা। বাদ্যযন্ত্রটা যদিও কথা না। কথাটা হলো নগরী পুড়ছিল, রোম। আর রাজা নিরো, রাজারা প্রায়শই যেমন হয়, প্রশাসকরা যেমন হয়—বিনোদনে ব্যস্ত থাকেন, মত্ত। প্রজা, গণজনেরও থাকে বিনোদন। হয়তো লোকগানে। কিন্তু সেই গানেরও আগে কিংবা গানেরই সাথে চলে রোজকার রোজগারের জন্যে হাত-পা-মাথা-শরীর। শ্রমের পর শ্রম। আমরা তাই শ্রমিক। কেউ অন্দরঘরে কেউ বাহিরে। হয়তো কেউ রাজারই অনুগত সেনানী। কিন্তু রাজারা প্রজাকে ভুলে গিয়ে যখন ওই বাঁশি না বীণা না বেহালা—বিনোদনে মত্ত তখন খোলা বাজারে মজুতদারি, মাৎসান্যায়, লাশের ওপর ভনভনিয়ে মাছি ওড়ে। কেউ কেউ তা দেখে। কেউ কেউ ভুলে যায়। কেউ সেই স্ক্রিনশট, ফসিলস গুহায় আঁকে, গায়, ম্যাগাজিনে ভরে। মাঝেমাঝে মনেহয় এমন একটা করে নিরো কেবল রাজভবনেই থাকে না, থাকে এই আমার মগজেও। মগজের নিকটজন সেই নিরোর বিহিত করতে পারি কি? ক’জনা পারি? কেউই কি পারি? আসলে দ্যাশ তো একটাই হওয়ার কথা, ছিলও—যে দ্যাশের নাম—দুনিয়া। একটাই দুনিয়া। আর তাতে রাজা নাই। ছিলও না। প্রজাও নাই। ছিলও না। নতুন করে সেই সুদিন কি আসবে আবারও? যখন স্ব-অধীন স্ব-নিয়ন্ত্রিত সকল আমি, সকল মানুষ।”

এ সংখ্যাতেও ছিল ক’জন অপরিচিত অখ্যাত কবির কবিতা। কবিরা অখ্যাত কিন্তু কবিতা খ্যাতি পাওয়ার মতো। ছিল সংখ্যার ভাবনাসূত্রে গাঁথা গদ্যগাথা, তিনটি গদ্য। যথাঃ দেবজ্যোতি রায়ের গদ্য: দিবাস্বপ্ন, সোমনাথ বেনিয়ার গদ্য: স্বরলিপি, অনিমেষের গদ্য: এক নগর আর নাগর। ফেসবুক সমাচার-এ ছিল শুভ্র চট্টোপাধ্যায়ের রম্য। তেমনই ব্লগবুক বিভাগে ছিল শিলিগুড়ির ‘চৌকাঠ’ ব্লগজিনের একটি প্রাসঙ্গিক সম্পাদকীয়। কাঠবাস্তব বিভাগে ছিল প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ: নিরোরা নোয়া হতে চায়নি কখনো। সমসাময়িক সময়ে এ লেখা না পড়া পাপ! এছাড়া উত্তরবঙ্গে প্রায় অনালোচিত ‘পীরবাবা’দের আলোচনা সূত্রে কৃষ্ণেন্দু রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ। ছিল প্রথিতযশা গল্পকার হিরণ্ময় গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প ‘ইনক্লাইন’। এছাড়া যাবতীয় নিয়মিত বিভাগ তো ছিলই বাড়তি পাওনা যেটা এ সংখ্যার সেটা হলো এই সংখ্যা থেকেই শুরু হয়েছে কবি সুকান্ত দাসের আলোচনায় প্রথম দশকের কবিতার ওপর আলোপাত। সংখ্যাটির প্রচ্ছদশিল্পী: জস এ. স্মিথ। সংখ্যাটি উৎসর্গীত ‘নিরস্ত্র ইবলিশ’কে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্লগজিনটি পড়া যায়। (ব্লগ: https://iblish7.blogspot.com/, এছাড়া মূল ব্লগ https://www.iblish.in/-তেও সংখ্যাটি পাওয়া যায়)

*******

ইবলিশের অষ্টম সংখ্যা ‘শতবর্ষে আহমদ শরীফ’। 

********

যোগাযোগ - editoriblish.rahebul@gmail.com 

ওয়েবসাইট - https://www.iblish.in/

Monday, June 7, 2021

চিকরাশি পত্রিকা

চিকরাশি পত্রিকার তথ্যপঞ্জি  

চিকরাশি পত্রিকার কয়েকটি সংখ্যার প্রচ্ছদ। ফটো: রাহেবুল।  


উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়ি থেকে প্রকাশিত একটি লিটিল ম্যাগাজিন। ২০১০ সালে এর প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি এখনও সক্রিয়। উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট কিন্তু উপেক্ষিত কবি-লেখকদের নিয়ে পত্রিকাটি ধারাবাহিক কাজ করছে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের নানান আলোচিত ও অনালোচিত দিক এতে উঠে আসে। ব্যক্তিগত সংগ্রহে চিকরাশির যে ক'টি সংখ্যা রয়েছে তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংক্ষেপে বলি:

১. আত্মপ্রকাশ সংখ্যা: চিকরাশি ১

কথাকার জ্যোৎস্নেন্দু চক্রবর্তী ও কথাকার জীবন সরকারের সাহিত্যের ওপর আলোচনা এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর একাধিক প্রবন্ধ।

২. চিকরাশি ২

সনৎ চট্টপাধ্যায় ও বিকাশ সরকারকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এছাড়া উত্তরের কবিতা, উত্তরের গান, উত্তরের ইতিহাস এমনকি উত্তরের মুখ বলে একটি আপাত বেখাপ্পা ফিচার।

৩. চিকরাশি ৩

অজিতেশ ভট্টাচার্য, জগন্নাথ বিশ্বাস ও হরেন ঘোষের ওপর বিশদ আলোচনা এছাড়া উত্তরের কবিতা।

৪. বেণু দত্তরায় ও তুষার বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যা এছাড়া অন্যান্য ফিচার।

৫. চোমংলামা সংখ্যা কথাকার চোমংলামা ওরফে বিমল ঘোষ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। এছাড়া অন্যান্য ফিচার।

৬. নাট্যকার সমর চৌধুরী, লেখক অর্ণব সেনকে নিয়ে

৭. ভ্রমণ লেখক গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য্যকে নিয়ে

৯. উত্তরবাংলার গবেষক

১২. উত্তরবাংলার নির্বাচিত সাহিত্য পত্র (১৩টি পত্রিকা নিয়ে প্রথম খন্ড)

১৩. কথাকার অশোক গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে

 

পত্রিকা: চিকরাশি

ধরন: ছাপা/প্রিন্টেড

সম্পাদক: অমিত কুমার দে

প্রকাশস্থান: ধূপগুড়ি, জলপাইগুড়ি

যোগাযোগ: 9647780792


তথ্য সংকলক: রাহেবুল এবং উত্তরবঙ্গ সাহিত্য আকাদেমি 

কবি সুজিত অধিকারী

 

সুজিত অধিকারী



 






জন্ম: ২৮ শে নভেম্বর ১৯৭৫

মৃত্যু: ২৫ শে জুলাই ২০১৪

জেলা: কোচবিহার

লেখালেখি: কবিতা


কাব্যগ্রন্থ:

পুনর্জন্ম কথা গান,

ডাউন ট্রেনের কামরায়,

মন খারাপের অনুচ্ছেদ,

দীর্ঘ ভাঙনের পর আমি আর নদী,

যেন কাল পায়রা ওড়ার দিন হয়,

শ্রীমতীর ভাঙন রোধে

এবং এখনো অপ্রকাশিত কিছু কবিতা আছে

সম্পাদনা: দশ বছর যুগ্ম সম্পাদনা নৈষ্ঠিক পত্রিকা

কবি সুজিত অধিকারীর স্মৃতি রক্ষার্থে নিশিগঞ্জে "নৈষ্ঠিক আকাদেমি" গঠিত হয়েছে ২০১৪ সালে


তথ্য সংকলক: উত্তরবঙ্গ সাহিত্য আকাদেমি 

যে পথে হাঁটছি...

চৈতালি ধরিত্রীকন্যা ' যে পথে হাঁটছি 'র পাঠ-প্রতিক্রিয়া  আলোচক: অমিত দাস     ১. ' কেমন করে ঠোঁট কাঁপে গরম চা দেখে ? দুটি পা...

অধিক পঠিত পোস্ট